ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল : ২০২৬ বিশ্বকাপ ও নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ
বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল ২০২৬ সালে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বর্তমান টি – টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা এখন নিজেদের মাটিতে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামছে। তবে এবারের পথচলা কিছুটা ভিন্ন। কোচ গৌতম গম্ভীরের অধীনে এবং ভিন্ন ফরম্যাটে ভিন্ন অধিনায়কের নেতৃত্বে দলটি তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে প্রস্তুত। ২০২৬ সালের ব্যস্ত সূচি এবং বিশ্বকাপের দল নির্বাচন নিয়ে ক্রিকেট পাড়ায় এখন তুমুল আলোচনা, বিশেষ করে কিছু তারকা খেলোয়াড়ের বাদ পড়া নিয়ে।
Table of Contents

নেতৃত্বে নতুন বিন্যাস ও গম্ভীরের দর্শন
২০২৬ সালে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব পুরোপুরি ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক ক্রিকেটে বেশ প্রচলিত। টেস্ট এবং ওডিআই (ODI) ফরম্যাটে দলের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ তারকা শুভমান গিলের কাঁধে। অন্যদিকে, টি – টোয়েন্টি ফরম্যাটে অভিজ্ঞ এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটার সূর্যকুমার যাদবকে অধিনায়ক করা হয়েছে, আর তার সহকারী হিসেবে থাকছেন অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এই নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দলের ভবিষ্যৎ গড়তে চাইছেন। তার আগ্রাসী কোচিং দর্শন এবং এই তরুণ নেতৃত্বের রসায়ন কেমন জমে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়লেন শুভমান গিল
সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে ২০২৬ টি – টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণায়। গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ – এ ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পাননি খোদ ওডিআই অধিনায়ক শুভমান গিল। তার বাদ পড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, দলে ফিরেছেন উইকেটকিপার ব্যাটার ইশান কিষাণ এবং ফিনিশার রিঙ্কু সিং। নির্বাচকরা সম্ভবত টি-টোয়েন্টিতে গিলের স্ট্রাইক রেটের চেয়ে ইশান ও রিঙ্কুর পাওয়ার হিটিংকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল নিজেদের ঘরের মাঠে ট্রফি ধরে রাখতে যে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত, এটি তারই প্রমাণ।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ও পাকিস্তান ম্যাচের উত্তেজনা
ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি – টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। তবে ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন ১৫ ফেব্রুয়ারির দিকে, যখন কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ভারত। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবং স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে ভারতের ওপর প্রত্যাশার চাপ থাকবে আকাশচুম্বী।
সারা বছর ঠাসা সূচি ও চ্যালেঞ্জ
বিশ্বকাপ ছাড়াও ২০২৬ সালে ভারতীয় দলের ব্যস্ততা তুঙ্গে। জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ (৫টি টি – টোয়েন্টি ও ৩টি ওডিআই) দিয়ে বছর শুরু হবে। বিশ্বকাপের পর জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১টি টেস্ট ও ৩টি ওডিআই, জুলাইতে ইংল্যান্ড সফর এবং সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফর রয়েছে। এছাড়াও সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসেও অংশ নেবে ভারত। সব মিলিয়ে, এই বছরটি ভারতীয় ক্রিকেটারদের ফিটনেস এবং বেঞ্চ শক্তি বা স্কোয়াড ডেপথের জন্য এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী সময় পার করছে। বিসিসিআই (BCCI) – এর পরিচালনায় একদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের তকমা, অন্যদিকে তারুণ্যনির্ভর নতুন স্কোয়াড, সব মিলিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা অনেক। শুভমান গিল ও সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে এবং গৌতম গম্ভীরের তত্ত্বাবধানে ‘মেন ইন ব্লু’ ২০২৬ সালে বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের রাজত্ব কতটা ধরে রাখতে পারে, এবং ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।